১২ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৩২

মাত্র সাতদিনে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অভিযানে ক্লুলেস দুর্ধর্ষ ডাকাতি মামলার আসামী গ্রেফতার।।মালামাল উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার (কৃষি কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণ)।। কুষ্টিয়া পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড কমলাপুর জাফর সাহেবের বাড়িতে চলতি বছরের ১১ মার্চ বুধবার দিবাগত রাতের ভোর ৪ টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ঘটিত দুর্ধর্ষ ক্লুলেস ডাকাতি মামলার ক্লু উদঘাটন করে আসামীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং মালামাল উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়েছে। উক্ত ঘটনায় কুষ্টিয়ার সুযোগ্য পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার) মহোদয়ের দিক- নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কুষ্টিয়া মোঃ আতিকুল ইসলাম এর তত্ত্বাবধানে এবং সদর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তাফা সহযোগীতায় অভিযান পরিচালনা করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুষ্টিয়া মডেল থানার চৌকস পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মামুনুর রশিদ।

সুত্রে জানা যায়,জাফর সাহেবের বাড়িতে ৭/৮ জনের সশস্ত্র ডাকাত দল বাড়ির গ্রীল ভাঙ্গা ও তালা ভেঙে জাফর সাহেব সহ বাড়িতে থাকা সকল সদস্যদের হাত পা বেধে অস্ত্রের মুখে প্রায় সাড়ে ৮২ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১২ হাজার টাকা ডাকাতি করে চলে যায়। এঘটনায় জাফর সাহেবের ভাই জাকিরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জনকে আসামী করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।মামলা নং ২৯, তাং ১১/০৩/২০২০,ধারা-৩৯৫/৩৯৭,পেনাল কোড রুজু হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (অপরারেশন) মামুনুর রশিদ কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ফ্রুটেজ সংগ্রহপূর্বক পর্যবেক্ষণ করে ডাকাতিকাজে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার সনাক্ত করে ১৭ জুন বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানার ইলিশপুর গ্রামের থেকে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেট করা ঢাকা মেট্টো -গ- ২৭-৫৫৫৩ গাড়ীসহ ভোলা জেলার দৌলতখান থানার দক্ষিণ চর শোবির আব্দুল হকের ছেলে শাহিন হোসেনকে (২৮) কে এ/পি-৮২৩/৩,ঢাকা মহানগর পশ্চিম কাজীপাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার কৃত ডাকাত শাহিনের স্বীকারোক্তি অনুসারে ১৮ জুন দুপর দেড় টায় ডিএমপি ঢাকার কোতায়ালী থানাধীন তাঁতীবাজার এলাকার স্বর্ণ মার্কেট হয়তে সাড়ে ১১ ভরি গলানো স্বর্ণ উদ্ধার করে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং মালামাল ক্রয়ের অপরাধে নবাবগঞ্জ থানার সিংহড়া গ্রামের মৃত সোহরাব হোসেনের ছেলে তরিকুজ্জামান রিপন (৫২) কে গ্রেফতার করা হয়।এরপর আসামী শাহীনের স্বীকারোক্তি মতে তেজগাঁও থানাধীন পান্থপথ বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের লেভেল -০৫,ব্লক-ডি,দোকান নং- ১৭, বাংলাদেশ সিলভার হাউজে থেকে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন কুঠিবাড়ী গ্রামের মৃত মন্টু লাল শাহের পুত্র রতন শাহ ওরফে রাজন (৩৩) ও উত্তর কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন শাক্তা নিকিপাড়া গ্রামের মৃত রাধেশ শ্যাম ঘোষের ছেলে প্রবীণ ঘোষ(৩৬) কে গ্রেফতার করা হয় এব তাদের দেওয়া তথ্যমতে সিন্ধুক থেকে ১০ ভরি ১৫ আনা ৪ রথি স্বর্ণ, স্বর্ণ বিক্রয় করা নগদ ৫ লক্ষ ৩৭০ টাকা ও স্বর্ণ পরিমাপের যন্ত্র জব্দ করে ২১ জুন আসামীদের কুষ্টিয়া বিজ্ঞ আদালতে সোপার্দ করিলে আসামীরা বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে।

এরপর ২৪ জুন তদন্তে প্রাপ্ত ঘটনার সাথে জড়িত আসামী কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ার রাজারহাট এলাকার মৃত ইউসুফ আলী খানের ছেলে পারভেজ খান (৩০) জিজ্ঞাসবাদের পর প্রাপ্ত স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ডাকাতি মালামাল উদ্ধার ও ডাকাকিকাজে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনাকালে ২৫ জুন রাত ২ টার সময় হরিপুর শালদহ সেন্টু মেম্বরের শিশু বাগানে পৌছালে অজ্ঞাতনামা ডাকাতরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতারিভাবে গুলি বর্ষণ শুরু করলে পুলিশ অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি গুলি বর্ষণ শুরু হয়।গোলাগুলির একপর্যায়ে অজ্ঞাতনামা ডাকাতদের ছোড়া গুলিতে অত্র মামলার ঘটনার সাথে জড়িত ডাকাত পারভেজ খান গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হলে চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় দুইটি মামলা হয়। মামলা নং -৫৮ ও ৫৯, তাং -২৫/০৩/২০২০।

এবিষয়ে সফল অভিযানের নায়ক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মামুনুর রশিদ বলেন, কুষ্টিয়া জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার) মহোদয়ের দিক- নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কুষ্টিয়া মোঃ আতিকুল ইসলাম এর তত্ত্বাবধানে এবং সদর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তাফা সহযোগীতায় কুষ্টিয়া পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড কমলাপুরের জাফর সাহেবের বাড়িতে ঘটিত দুর্ধর্ষ ক্লুলেস ডাকাতি মামলার ক্লু সাতদিনের মধ্যে উদঘাটন করে আসামী গ্রেফতার এবং মালামাল উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়েছে।তিনি আরো বলেন,বাকী আসামীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে

( সম্পাদনায়:অনলাইন নিউজরুম এডিটর )

%d bloggers like this: