১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:২৫

সকালে সরগরম, বিকেলে সুনশান

কুষ্টিয়া অফিস (কৃষি কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণ) ।। সকাল আর বিকেলের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। সকালে হাজার হাজার মানুষের সমাগম। বিকেলের পর থেকে সুনশান নীরবতা।
সাত সকালে কুমারখালীর বাজারগুলোর পরিবেশ দেখলে বোঝার উপায় থাকে না যে, করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন চলছে। আবার বিকেলের পর এমন নীরবতা নামে কুমারখালী জুড়ে, যেন করোনাভাইরাসের ভয়ে সবাই ঘরবন্দি। রাস্তায় তখন বাজার পাহারাদার আর কুকুর ছাড়া কাউকে দেখা যায় না।
মঙ্গলবার সকাল ও বিকেলে কুমারখালীর এমন দৃশ্য দেখা গেছে।দেশের অনেক জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। অনেক পাড়া-মহল্লায় ঘোষণা দিয়ে চলছে স্বেচ্ছা লকডাউন। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। কোথাও লকডাউন সেভাবে মানা হচ্ছে না। ঘর থেকে বের হয়ে মানুষ দলে দলে ঘুরছে। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ, সব শ্রেণির মানুষকেই রাস্তায় দেখা যায়। বিশেষ করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত।করোনাভাইরাসের কারণে দেশ জুড়ে সাধারণ ছুটি ছলছে।
এ ব্যাপারে কুমারখালী থানার এক এসআই বলেন, ‘আমরা কী করব। জনগণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে লুকোচুরি খেলছে। জরিমানা করেও মানুষকে ঘরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। হুমকি-ধামকি দিয়ে তো মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। যতক্ষণ তারা সচেতন না হবে, ততক্ষণ পুরোপুরি লকডাউনও সম্ভব না।’
কাঁচাবাজারে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনো সামাজিক দূরত্ব মানা হয় না। এত মানুষের উপস্থিতি থাকে যে, গায়ে গায়ে লেগে হাঁটতে হয়। হকাররা রাস্তার ওপর অসংখ্য দোকান বসিয়ে বিক্রি করেন। পাশের মুদি দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ে নাভিশ্বাস অবস্থা।
এ ব্যাপারে এক ক্রেতাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি মজা করে বলেন, ‘সকালে করোনা ঘুমায়, তাই এত মানুষ বাজারে। আর রাতে দেখতে পায়, তাই মানুষ ঘর থেকে বের হয় না।’
কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকার মুদি দোকানী মোঃ সুলতান বলেন, ‘দুপুর ১টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকে। সকালের দিকে মানুষের ভিড় বেশি হয়। অনেক মানুষ, তাই সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব হয় না। বারবার বলেও কোনো লাভ হয় না। মানুষ ত্যাড়া, কথা শোনে না।’

(সম্পাদনায়:অনলাইন নিউজরুম এডিটর/সঃ কাঃ)

%d bloggers like this: