২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:৪৩

পচন ঠেকানো গেলো না ৩০ ভাগ চামড়ার

ঢাকা অফিস (কৃষি কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণ) ।। পানির দরে কিনেও কোরবানির পশুর চামড়ার পচন ঠেকানো সম্ভব হয়নি। এরফলে ৩০ ভাগ গরুর চামড়াই নষ্ট হয়ে গেছে। আর খাসির চামড়া পচেছে ৯০ ভাগেরও বেশি। দরদামে রফা না হওয়ায় চট্টগ্রামে আড়তের সামনেই কয়েক হাজার চামড়া পচে নষ্ট হয়েছে । রাজধানীতে পোস্তার সামনে পড়ে আছে বিপুল সংখ্যক চামড়া। গুণগতমান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন এসব চামড়া তুলতে রাজি হচ্ছেন না কোনো আড়ৎদার।

এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য খাতসংশ্লিষ্টরা একে অন‌্যকে দোষারূপ করছেন। এদিকে, দায়িত্বশীলদের গাফিলতি দেখছে সরকার।

প্রতিবছর দেশে ১৮ কোটি বর্গফুটের বেশি চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এর ৬০ শতাংশ সরবরাহ হয় কোরবানি থেকে। এবার কোরবানির হার ৩০ শতাংশ কম। কোরবানির পশুর মধ্যে ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে পড়ায় এবার ট্যানারি মালিকরা বছর শেষে ভয়াবহ রকম চামড়ার সংকটে পড়বেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন বলেন, ‘চামড়া পরিস্থিতির যেকোনো সমস্যা মোকাবিলা করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগে থেকেই কন্ট্রোল রুম খুলেছে। সেখান থেকে সারাদেশে চামড়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে চামড়াসংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে। এ কারণেই কিছু চামড়া নষ্ট হয়েছে।’

তবে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি এই পরিস্থিতির জন্য সুনির্দিষ্ট কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে। এই সংগঠনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে চামড়ার অযৌক্তি মূল্য নির্ধারণ, মাঠপর্যায়ে পানির দরে চামড়া কেনা, আড়তে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়া, নগদ টাকার সংকট এমন পরিস্থিতির জন‌্য দায়ী। এছাড়া, প্রচণ্ড গরম, বৃষ্টি ও বন্যাকেও তারা দায়ী করছেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, ‘ট্যানারি মালিকরা তো এখনো চামড়া কেনাই শুরু করেনি। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি ট্যানারি কাঁচা চামড়া কিনলেও তা নগদ টাকায় উপযুক্ত দাম দিয়ে কিনেছে। সঙ্গে সঙ্গেই ট্যানারির গুদামে লবণজাত করে সংরক্ষণ করা হয়েছে।’

আড়ৎদার সমিতির সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্ক্রিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব আহমেদ বলেন, ‘চামড়ার বাজারে নগদ টাকার সংকট প্রকট। ট্যানারি মালিকদের কাছে এখনো ১১০ কোটি টাকা পাওনা আড়ৎদাররা। ওই টাকা না পাওয়ায় অনেক আড়ৎদার চামড়া কিনতেই পারছেন না।’ তিনি দাবি করেন, ‘এত সমস্যার পরও ঢাকায় আসা চামড়া যেকোনোভাবে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব মো. রবিউল আলম বলেন, ‘ইতোমধ্যে সারাদেশে নষ্ট হওয়া গরুর চামড়ার ৩০ ভাগ ও খাসির চামড়ার ৯০ ভাগের বেশি মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

মো. রবিউল আলম বলেন, ‘চামড়ার মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাবিত হার অবাস্তব ছিল। একটি গরুর চামড়ায় লবণ, কারিগরি খরচ, গুদামভাড়া, বিদ্যুৎ ও মজুরি খরচ মিলে ২৫০ টাকা খরচ হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিনামূল্যে পাওয়া চামড়াও লবণজাতের খরচ আছে ৯০ টাকা। সেখানে বিক্রি দাম ৬০ টাকা হলে ৩০ টাকা ভর্তুকি কে দেবে?’

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্ক্রিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, এবার ৩ থেকে সাড়ে তিন লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে পোস্তার আড়ৎগুলোর। গত বছর ৫ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। এবার কোরবানি কম হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রাও কমানো হয়েছে।

( সম্পাদনায়:অনলাইন নিউজরুম এডিটর )

%d bloggers like this: