২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:০৯

‘হিরোইজম’ দেখাতে গিয়ে অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোররা

ঢাকা অফিস (কৃষি কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণ) ।। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত এক সপ্তাহে কিশোরদের মধ্যে সংঘাতে অন্তত তিন জন খুন হয়েছে। কিশোর অপরাধ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপরতা বাড়িয়েছে। সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘হিরোইজম’ দেখাতে গিয়ে অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোররা।

রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর নবাবপুর কৃষি ব্যাংক গলির কাছে মুন্না ও শাহিন নামের দুই কিশোরকে ছুরিকাঘাত করা হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে মুন্না নামের এক কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ওয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুর রহমান বলেন, ‘নিহত মুন্নার বাসা ওয়ারীর লাল চান গলিতে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত‌্যাকাণ্ড ঘটেছে। ওই এলাকায় দুই দল কিশোরের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। এ ঘটনায় ১৩ কিশোরসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

একই দিনে (৩০ আগস্ট) পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়া এলাকায় ছুরিকাঘাতে মো. নয়ন নামে এক কিশোর খুন হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কালো কাপড় পড়া কয়েকজন কিশোর নয়নকে কুপিয়ে হত্যা করে। বকশিবাজার এলাকায় দুটি কিশোর গ্রুপের দ্বন্দ্বের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে।

এর আগে গত বুধবার বিকেল ৩টার দিকে দক্ষিণখানের মরার ঘাট এলাকায় মো. রানা মিঞাকে (১৭) কয়েকজন কিশোর ছুরিকাঘাত করে। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় রানার। এ ঘটনায় শাহীন, রাসেল ও সাব্বির নামে তিন কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।

দক্ষিণখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হেলালউদ্দিন বলেন, ‘এই এলাকায় দুটি গ্রুপের মধ‌্যে দ্বন্দ্ব ছিল। এর জের ধরে রানাকে হত্যা করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব গ্রুপের নাম বলা যাচ্ছে না।’

গত ১৫ বছরে রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস‌্যদের দ্বন্দ্বে ৯০ কিশোর খুন হয়েছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ‌্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৪০০ কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা জানান, কিশোর অপরাধীরা খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব‌্যবসা ও সেবন, ইভটিজিং, অপহরণ, ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীতে প্রায় ৬০টি কিশোর গ্যাংয়ের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে প্রায় ৪০টি গ্রুপ সক্রিয়। ধানমন্ডিতে আছে অন্তত তিনটি গ্রুপ—নাইন এমএম, একে ৪৭ ও ফাইভ স্টার। রায়েরবাজারে স্টার বন্ড ও মোল্লা রাব্বি গ্রুপ, মোহাম্মদপুরে গ্রুপ টোয়েন্টিফাইভ, লাড়া দে, লেভেল হাই, দেখে ল-চিনে ল, কোপাইয়া দে গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। তেজগাঁওয়ে মাঈনুদ্দিন গ্রুপ, মিরপুর-১১তে বিহারি রাসেল গ্যাং, মিরপুর ১২ নম্বরে বিচ্চু বাহিনী, পিচ্চি বাবু ও সাইফুলের গ্যাং, সি-ব্লকে সাব্বির গ্যাং, ডি-ব্লকে বাবু-রাজন গ্যাং, চ-ব্লকে রিপন গ্যাং ও মোবারক গ্যাংয়ের তথ‌্য পাওয়া গেছে। কাফরুল-ইব্রাহিমপুরে সক্রিয় নয়ন গ্যাং। উত্তরায় পাওয়ার বয়েজ ও ডিসকো বয়েজ নামের দুটি গ‌্যাং আছে। রাজধানীর অন‌্যান‌্য এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন নামে আছে কিছু কিশোর গ‌্যাং।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বলেছেন, ‘কিশোরদের মধ‌্যে ভিনদেশি সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগে এই কিশোর গ্যাং কালচার থেকে তাদের ফেরাতে এগিয়ে আসতে হবে।’

সমাজবিজ্ঞানী নেহাল করিম বলেন, ‘নানা অসঙ্গতি আছে সমাজে। নিজেদের সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে কিশোররা। তাদের আচরণে পরিবর্তন হচ্ছে। কিশোর বয়সে হিরোইজম থাকে।’

২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরে আদনান কবির হত্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি নজরে আসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

( সম্পাদনায়:অনলাইন নিউজরুম এডিটর )

%d bloggers like this: