১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:৪৪

চট্টগ্রাম বন্দরে ভয়াবহ জাহাজ জট

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক (কৃষি কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণ) ।। কন্টেইনার জট সামাল দিতে গিয়ে এবার চট্টগ্রাম বন্দরে ভয়াবহ জাহাজ জট সৃষ্টি হয়েছে। বন্দর ও বহির্নোঙ্গরে এখন প্রতিদিন গড়ে কন্টেইনারবাহী ৩০টির বেশি জাহাজের অবস্থান করছে। মূলত কন্টেইনার জট কমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ আনলোডের ক্ষেত্রে রেশনিং সিস্টেম চালু করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর অংশ হিসেবে টানা সরকারি বন্ধ চলছে। আর এই বন্ধের মধ্যে পুরো দমে চলছে চট্টগ্রাম বন্দর। প্রথম পর্যায়ে ভোগ্যপণ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী খালাস করা হতো। আর এখন তার সাথে যুক্ত হয়েছে ভারী শিল্পের কাঁচামালও। আর এই বন্দর পুরো দমে চালু রাখতে দেয়া হচ্ছে নানা রকম প্রমোদনা।

আমদানিকৃত পন্য নিয়ে আসা কন্টেইনার ডেলিভারীর ধীর গতিই চট্টগ্রাম বন্দরকে এক প্রকার কাবু করে রেখেছে। অনেকটা রেশনিং সিস্টেমেই জাহাজ থেকে কন্টেইনার নামছে। অর্থাৎ যেদিন যত কন্টেইনার ডেলিভারী হবে, ওই দিন জাহাজ থেকে সেই পরিমানে কন্টেইনার নামবে। সে অনুযায়ী কন্টেইনার আনলোডের পরিমান অর্ধেকে নেমে এসেছে।

ফ্রেইড এন্ড ফরোয়ার্ডের এসোসিয়েশন পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘ডেলিভারি যদি সঠিক সময়ে না করা হয় তাহলে পরে এটি ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।’

চট্টগ্রাম বন্দর ও বন্দরের বর্হিনোঙ্গরে মোট জাহাজ রয়েছে ১২৪টি। এর মধ্যে কন্টেইনারবাহী জাহাজ রয়েছে ৪৬টি। অথচ স্বাভাবিক সময়ে কন্টেইনারবাহী জাহাজের সংখ্যা থাকতো ১৫ থেকে ২০টি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ৭ জুলাই থেকে সৃষ্টি হচ্ছে জাহাজ জটের।

চট্টগ্রাম বন্দর সাইফ পাওয়ার টেক সিইও ক্যাপ্টেন তানভীর আহমেদ বলেন, ‘ডেলিভারি প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। আর সেইগুলো ডেলিভারি না হলে পরবর্তীতে এই ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে।’

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘করোনা ভাইরাস আতংকের কারণে বর্তমানে পণ্য পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান কিংবা লরি পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে ভাল্ক জাহাজে করে আসা ভোগ্যপণ্যসহ অন্যান্য সামগ্রী বন্দরের বহিঃনোঙ্গরেই খালাস করা হচ্ছে।

%d bloggers like this: