২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সকাল ১০:০০

ঈদে শপিং সেন্টারগুলোতে মনিটরিং কতটা কঠোর হবে?

ঢাকা অফিস (কৃষি কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণ) ।। ব্যবসায়ীদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মে থেকে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে (সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত) খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে দেশের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠার ও বিপণীবিতানগুলো। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে তা কতটুকু মানা হবে বা মানবে তা নিয়ে সংশয় বিশেষজ্ঞদের। তবে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলছেন, এ বিষয়ে কঠোর মনিটরিং করা হবে। অন্যদিকে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে নিয়ম মানা না হলে জরিমানা বা জেলে পাঠানো হতে পারে।

এদিকে সরকারের এ ঘোষণার পর দেশের সবচেয়ে বৃহৎ এবং আধুনিক দুই শপিংমল (যমুনা ফিউচার পার্ক এবং বসুন্ধরা সিটি) না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উভয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘোষণাকে অনেকে সাধুবাদও জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের দাবি, পহেলা বৈশাখ শুরুর আগে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার দেশব্যাপী যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে তাতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হাজার কোটি টাকা ক্ষতির সস্মুখিন হতে হয়েছে তাদের। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগও করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাস সব ভাসিয়ে দিয়েছে।

রমজান এবং ঈদকে কেন্দ্র করে যাতে এ ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারে ব্যবসায়ীরা তাই শপিংসেন্টার ও দোকানপাট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যা ১০ মে থেকে খোলার কথা রয়েছে।

ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি তৌফিক এহেসান বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী শর্তগুলো অবশ্যই পালন করা হবে। যারা পালন করবে না তাদের বিরুদ্ধে সমিতির পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া নিয়ম পালনে বাধ্য করতে সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে পবিত্র রমজান এবং ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সীমিত পরিসরে দোকানপাট, শপিংমলগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ১০ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। পাশাপাশি দোকানপাট, ব্যবসাকেন্দ্রে শর্তগুলো মানা হচ্ছে কিনা তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। শর্তগুলো না মানলে সংশ্লিষ্টদের করা হবে জেল-জরিমানা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থাগুলো এ বিষয়ে এক সঙ্গে কাজ করবে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে মার্চের শুরুর দিকে বেচাবিক্রি কমে যায়। মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এতে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা না দিলে বৈশাখে ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হতো। যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। ১০ মে থেকে সরকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা এ নির্দেশনা মেনে প্রতিষ্ঠান চালাবে বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের বাঁচিয়ে রাখতে সরকার ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সেখান থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। এ ঋণ পেলে আমরা শ্রমিকদের বেতন দিয়ে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো।

এবিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আগামী ১০ মে থেকে ব্যবসায়ী ও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সীমিত আকারে-পরিসরে দোকানপাট, ব্যবসাকেন্দ্র খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিজ নিজ এলাকার অবস্থা বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন নির্দেশনা দেবেন। নির্দেশনা মানা হচ্ছে কী-না তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। প্রয়োজন হলে তারা আগেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারবে।

গত ৪ মে শর্তসাপেক্ষে বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নির্দেশনায় বলা হয়, সারাদেশের দোকানপাট, শপিংমলগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। প্রতিটি শপিংমলে প্রবেশের ক্ষেত্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘোষিত সতর্কতা প্রয়োগ করতে হবে। দেশে ৭ মে পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

( সম্পাদনায়:অনলাইন নিউজরুম এডিটর )

%d bloggers like this: