১০ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৬শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:০২

তরমুজের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে!

দক্ষিন অঞ্চলীয় ব্যুরো প্রধান ( সব্বির আহমেদ বিরল ) ।। খুলনার শষ্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত উপকূলবর্তী উপজেলা দাকোপে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। করোনার প্রভাবে আশানুরূপ ক্রেতা না থাকা ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন চাষিরা।

এদিকে, সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বিপুল পরিমাণ তরমুজ নষ্ট হয়েছে। এভাবে বৃষ্টি হতে থাকলে পানি জমে মাঠে থাকা তরমুজের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দাকোপ উপজেলার বাজুয়া, দাকোপ সদর, কৈলাশগঞ্জ, লাউডোব ও বানিশান্তা ইউনিয়নে ১ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ ও ১৫ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি চাষ করা হয়েছে।

তরমুজ চাষিরা জানান, বিঘাপ্রতি এবার তরমুজের উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৬-১৮ হাজার টাকা, এর বিপরীতে ৪৫-৫০ হাজার টাকা আয়ের প্রত্যাশা ছিল তাদের। কিন্তু সে আশা এখন অনেকটাই হতাশায় পরিণত হয়েছে।

সূত্র মতে, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বাজার ছাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে এখানকার তরমুজ। সাধারণত ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলার বড় মোকামের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখানে এসে তরমুজ কেনেন। কিন্তু করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এবার ওই সকল এলাকা থেকে ব্যাপারীরা আসতে পারছেনা। স্থানীয় প্রশাসন জনসাধারণের করোনা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে তরমুজ কেনাবেচায় বেশকিছু বিধি-নিষেধও জারি করেছেন।

উপজেলার পশ্চিম বাজুয়ার তরমুজ চাষি ফণী ভুষন মণ্ডল, কচা গ্রামের বিধান মণ্ডল, দাকোপের গৌরাঙ্গ ঘরামী, হরিণটানার রণজিত মণ্ডল এবং চুনকুড়ি গ্রামেরে অশোক রায় জানান, এবার তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ কারণে ন্যায্যমূল্য পেলে উৎপাদন খরচের দ্বিগুণ লাভ হবে। তবে যদি পাইকারি ক্রেতা আসতে না পারে, তাহলে পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

এই চাষিরা জানান, অনেকেই বিভিন্ন সমিতি অথবা মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছেন। যে কারণে খুব দ্রুত বিক্রি করতে না পারলে কালবৈশাখীর মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে খেতের তরমুজে পচন ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিহির মণ্ডল জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি নিজ উদ্যোগে অনেক ব্যাপারীকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ থেকে করোনা সংক্রান্ত পরীক্ষার প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছেন। তিনি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাইকারি ক্রেতাদের উপজেলায় প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান বলেন, দেশে অন্যান্য নিত্যপণ্য বিপণন ও পরিবহন যদি চলতে পারে তবে কেন কৃষিপণ্য পরিবহন হবে না?

বৃহত্তর স্বার্থে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যাপারীদের দাকোপে আসার সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির বৈধ কাগজপত্র, আইডি কার্ড এবং স্বাস্থ্য সনদ প্রদর্শনের শর্তে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও যশোর এলাকার মালামাল পরিবহনের গাড়ি এখানে আসার অনুমতি দিয়েছি। অনুরূপ শর্তে একই অঞ্চলের ক্রেতা বা ব্যাপারীদেরও দাকোপে এসে তরমুজ কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বহিরাগতদেরও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দাকোপে এসে তরমুজ কেনার সুযোগ দেওয়া হবে।

( সম্পাদনায়:অনলাইন নিউজরুম এডিটর )

%d bloggers like this: