১১ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৭শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:৪৬

ঈদের কেনাকাটায় অনলাইনে ভরসা বাড়ছে

ঢাকা অফিস (কৃষি কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণ) ।। আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রতিবছরই ঈদের আগে ফুটপাত থেকে শুরু করে শপিংমলের দোকানগুলোতে জমে ওঠে বেচাকেনা। তবে এবার করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ রয়েছে বেশিরভাগ দোকানপাট। ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এবার ঈদের কেনাকাটা জমবে অনলাইনে। মোট কেনাকাটার ৮০ ভাগের বেশি অনলাইন থেকেই হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগের চেয়ে কমেছে। তারপরও ঈদে অনেকে কোনাকাটা করতে চাবেন। তবে এবার দোকানে এসে কেনাকাটার চেয়ে অনলাইনে কেনাকাটা প্রাধান্য বেশি হবে।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) জানিয়েছে, অনলাইনে অর্ডার হওয়া পণ্যগুলো ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে রাত ১০টা পর্যন্ত ডেলিভারি ম্যানদের কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পণ্য অর্ডার ও ডেলিভারি যেন দ্রুত হয় সে বিষয়ে বিক্রেতাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্টক না থাকলে অর্ডার না নিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া, আগে যারা অফলাইনে অর্থাৎ শপিং মলে বা বিভিন্ন মার্কেটে কাপড়, জুতা ইত্যাদি বিক্রি করতেন তাদেরকে অনলাইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ই-ক্যাব। অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলো বলছে, তারা ঈদে বিক্রি নিয়ে খুবই আশাবাদী। তবে পরিস্থিতি যেহেতু অনুকূলে নেই, সেহেতু ব্যবসা অন্যবারের তুলনায় কম হতে পারে।

ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ব্যবসার আগে আমরা মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। ঢাকার বেশিরভাগ বিপণিবিতান বন্ধ রয়েছে। যেগুলো খোলা, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাকেনা হচ্ছে। আমরা তদারকি করছি। তবে সেখানে ক্রেতা কম।’

ধানমন্ডির জেনেটিক প্লাজার কাপড়ের ব্যবসায়ী আবু হোসেন বলেন, ‘সারা দিন অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। মানুষের কেনাকাটায় আগ্রহ নেই। তবুও শেষদিকে কিছু বিক্রি হবে আশা করছি। ’ একই মার্কেটের জেড এক্স ফ্যাশনের মালিক তৌয়ব বলেন, ‘দোকানের পাশাপাশি অনলাইনেও আমরা পণ্য বিক্রি করছি। দোকানের চেয়ে অনলাইনে ভালো বিক্রি হচ্ছে। এখন পুরাতন স্টক শেষ করতে পারলেই বাঁচি।’

ই-ক্যাবের নির্বাহী সদস্য (ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং ও সোশ্যাল মিডিয়া) জাফরিন ইসলাম জেনি বলেন, ‘করোনার কারণে আমি নিজেও উদ্বিগ্ন। চারপাশের খবরগুলো দেখে ব্যবসা করার মতো মানসিকতা এখন নেই। সবারই একই অবস্থা। সমস্যায় আছি আমরা। এ সময়ে ডেলিভারিম্যানরা যে আসা-যাওয়া করবে সেটাও আমার কাছে সেফ মনে হয় না। কারণ, একটা ড্রেস বা পার্সেল যে অন্য জায়গা থেকে আসবে, সেটা কতখানি নিরাপদ যে আমি আমার বাসায় ঢুকাবো।’

তুলি’স কালেকশনের মালিক তুলি তাসনিম বলেন, ‘লকডাউন ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমরা ঈদে বিক্রি বন্ধ রেখেছি। সবকিছু স্বাভাবিক হলে আবার ব্যবসা করব।’

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘ঈদে অফলাইন শপিং খুবই সীমিত এবং স্বাস্থ্যগত দিক থেকে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এবারের অনলাইন ঈদ কেনাকাটা নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী। সামগ্রিকভাবে গ্রাহকদের মন-মানসিকতা এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি যেহেতু অনুকূলে না, সেহেতু অন্য যেকোনো বারের তুলনায় কেনাকাটার ভলিউমটা কম হতে পারে। তবুও গ্রাহকদের অনলাইনে কেনাকাটায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের অফার রাখা হয়েছে। ডিজিটাল পেমেন্ট অর্থাৎ বিকাশ ও ভিসা কার্ডের জন্য ২০ শতাংশ ক্যাশব্যাকসহ ল্যাপটপ, মোবাইল এবং লাইফস্টাইল পণ্যে (থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, জুতা) ১০০ পার্সেন্ট ক্যাশ ব্যাকের অফার রয়েছে। এটা আমরা করছি, গ্রাহক যেন অনলাইন থেকে কেনাকাটা করেন এবং ঘর থেকে বের না হন। আমাদের এখানে যারা সেলার আছেন তারা যেন সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের মধ্যে পণ্য বিক্রি করেন সে বিষয়ে উৎসাহিত করতে ১০ শতাংশ বোনাস দিচ্ছি।’

সার্বিক বিষয়ে ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবাদুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ‘লকডাউনের কারণে ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পণ্য ডেলিভারি করতে বলা হয়েছে। যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন, তাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি ব্রোশিয়ার করে দিয়েছি, যাতে ডেলিভারির সময় সেফটির বিষয়টি মানেন।’

অনলাইনে কী পরিমাণ বেচাকেনা হতে পারে, জানতে চাইলে মোহাম্মদ আবাদুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ‘জিডিটাল বায়ার বেড়েছে। তবে সমস্যা হচ্ছে, করোনার কারণে মানুষের বায়িং ক্যাপাসিটি কমে যাচ্ছে। এছাড়া, মানুষ ফেস্টিভাল মুডে নেই। সেক্ষেত্রে অনলাইনে যতটা প্রত্যাশিত ছিল ততটা হবে না। এ সময়ে অন্যবারের তুলনায় কেউই বেশি ব্যবসা করতে পারবে না। তবে অ্যাসোসিয়েশনের (ই-ক্যাব) পক্ষ থেকে আমরা বলে দিচ্ছি, যা অর্ডার আসে ঈদের আগে যেন ডেলিভারি দেওয়া হয়। কেউ যেন ওভার কমিটমেন্ট না করে।’

ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য সাপোর্ট সেন্টার খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবাদুল ওয়াহেদ তমাল।

( সম্পাদনায়:অনলাইন নিউজরুম এডিটর )

%d bloggers like this: