১১ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৭শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:১২

ঈদের কেনাকাটা: মানছে না স্বাস্থ্যবিধি, বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

কুমারখালী প্রতিনিধি (কৃষি কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণ) ।। বদলে গেছে কুষ্টিয়া কুমারখালীর চিত্র। শুরু হয়েছে ঈদ উৎসবের আমেজ। খুলে দেওয়া মার্কেটগুলোতে বিরাজ করছে কোলাহলমুখর পরিবেশ। গায়ে গা মিশিয়ে, পায়ে পা লাগিয়ে অবিরাম চলছেন সবাই। সবার লক্ষ্য ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা করা। অন্যান্য বছরের মতো না হলেও মোটামুটি দুই দিনের ব্যবধানেই সেজেছে দোকানগুলো। এসব দেখে কারো মনে হওয়ার উপায় নেই যে দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলছে।

বুধবার (১৩ মে) কুমারখালীর মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। যেন করোনার আতঙ্ক মিলিয়ে গেছে। জমে উঠেছে বেচাকেনা। বিক্রেতাদের হাসিমুখই দিচ্ছে তার প্রমাণ। পোশাক এবং মোবাইল ফোনের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেশি।

এদিকে, এসব মার্কেটের অনেক জায়গায় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। যদিও মার্কেটের প্রবেশপথে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারও। তবে মানুষের তুলনায় এ ব্যবস্থা অপ্রতুল। করোনার সংক্রমণ রোধে তিন ফিট দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও কোনো দোকানি বা ক্রেতা তা মানছে না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা পেটের দায়েই দোকান খুলেছেন। দীর্ঘদিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করায় সেই ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা হলেও কমিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

সকল দোকানের সামনে জনসমাগম দেখা যায়। কোনো ধরনের সামাজিক দূরত্ব মানা হয়নি। জানতে চাইলে বিভিন্ন দোকানের কর্মচারী জানান, কাস্টমারদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য বলা হয়। কিন্তু তারা সেটা মানেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি বলেন, ‘কোথাও কি সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে? তারপরও এখানে ভালোই মানা হচ্ছে। হাত ধোয়া, স্প্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর যারা কেনাকাটা করতে আছেন তাদেরও সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিত।’

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ প্রতিরোধের যে কয়েকটি ধাপ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম ধাপ হলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। সরকার করোনার প্রার্দুভাব ঠেকাতে সাধারণ ছুটি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, গার্মেন্টস-মার্কেট খুলে দিচ্ছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে মানুষ কনফিউজড। আইন প্রয়োগ ছাড়া মানুষকে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব না।’

আইন প্রয়োগ করেই আমাদের এ সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে দুঃসহ সময় আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।’

( সম্পাদনায়:অনলাইন নিউজরুম এডিটর )

%d bloggers like this: