২৩শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:০৩

গণপরিবহনে স্বাস্থ‌্যবিধি মানার পথে ‘প্রধান বাধা কন্ডাক্টর-হেলপার’

ঢাকা অফিস (কৃষি কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণ) ।। করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফের গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে গত ১ জুন থেকে। তবে, এসব বাসে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তারা বলছেন, বাসে ওঠা-নামার সময় কন্ডাক্টর-হেলপাররা যাত্রীদের হাতে-পিঠে হাত দিয়ে ধরছেন। অধিকাংশ হেলপারই বাসের গেটে দাঁড়িয়ে থাকেন। ফলে, যাত্রী ওঠা-নামার সময় স্বাস্থ‌্যবিধি রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।

গায়ে হাত রাখা ও জড়িয়ে ধরা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে মতিঝিলগামী ‘সিটি পরিবহন’-এর যাত্রী মোহাম্মদ আহাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘যাত্রী ওঠানোর সময় বাসের হেলপার গেটে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তারা যাত্রীদের গায়ে-পিঠে হাত রাখেন। জড়িয়ে ধরেন। যা যাত্রীদের জন্য খুবই অস্বস্তির ও ঝুঁকিপূর্ণ।’

আহাদ হোসেন বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ এড়াতে যেখানে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম রয়েছে, সেখান বাসের কন্ডাক্টর-হেলপাররা যাত্রীদের জড়িয়ে ধরে তুলছেন। এভাবে চললে গণপরিবহন থেকেই করোনার ব্যাপক বিস্তার ঘটবে।’

অনাবিল পরিবহনে দেখা গেছে, তাড়াহুড়ো করে যাত্রী তোলার সময় গায়ে হাত দিচ্ছেন হেলপার। তবে, আসনে বসার সময় শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে।

গায়ে হাত দিয়ে যাত্রী তোলার কারণ জানতে চাইলে অনাবিল পরিবহনের হেলপার রাজ্জাক হোসেন বলেন, ‘যাত্রীরা বাসে ওঠার সময় সবাই তাড়াহুড়ো করেন। সবাইকে লাইনে দাঁড়িয়ে ওঠার জন্য বললেও সেই কথা কেউ শুনছেন না। যাত্রীরাই যদি নিয়ম না মানেন তাহলে আমরা যতই চেষ্টা করি স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানা সম্ভব হবে না।

যাত্রী তোলার সময় তাদের হাতে-পিঠে হাত রাখার কারণ জানতে চাইলে সিটি পরিবহনের হেলপার মোহাম্মদ কুদ্দুস আলী বলেন, ‘করোনার কারণে বাসে এমনিতেই যাত্রী সংকট। তার ওপর রাস্তায় বাস নিয়ে নামলেই অনেক টাকা খরচ। এই খরচের টাকাও মাঝে মধ্যে ওঠে না। তাই এত সব চিন্তা করার সময় নেই। ’

একই পরিবহনের যাত্রী ইমরান বলেন, ‘বাসে পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। করোনার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, হেলপার দরজায় দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী তুলছেন। হেলপার যদি দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রী তোলেন, তাহলে সংক্রমণ ঝুঁকি অনেক কমে যাবে।’

এসব অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে অনাবিল পরিবহনের ম্যানেজার মোহাম্মদ জাকারিয়া হোসেন বলেন, ‘বাসের ড্রাইভার ও হেলপারদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দিয়েছি। বলেছি, তারা যেন যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চালান।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়েছি। বাসের সিট জীবাণুমুক্ত করতে জীবাণুনাশক স্প্রেও দিয়েছি।’ পরিবহনের কেউ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাড়িতে যাত্রী তুললে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

( সম্পাদনায়:অনলাইন নিউজরুম এডিটর )

%d bloggers like this: