২৩শে অক্টোবর, ২০২০ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:২০

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের দায়ে ২৯০ জন চিহ্নিত: সচিব

ঢাকা অফিস (কৃষি কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণ) ।। ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের দায়ে ২৯০ জনকে চিহ্নিত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ সচিব ড. সুলতান আহমেদ। তিনি বলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের কারণে গত এক মাসে মোট ৬২ হাজার ৯৬টি অভিযোগ এসেছে।

রোববার (০৫ জুলাই) বিদ্যুৎ বিলের ওপর বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রতিবেদন নিয়ে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ সচিব এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সচিব জানান, আমাদের ৬টি সংস্থা বিদ্যুৎ বিতরণে কাজ করে। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ২ কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে অভিযোগ এসেছে ৩৪ হাজার ৬১১টি। অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। ডিপিডিসির ৯ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৯ জন গ্রাহকের মধ্যে ১৫ হাজার ২৬৬ জনের অভিযোগ এসেছে। এখানে ৪ জনকে সাময়িক বরখাস্তসহ আরও ১৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডেসকোর ১০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৫ হাজার ৬৫৭ জনের অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নেসকোর ১৫ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪৮ জন গ্রাহকের মধ্যে ২ হাজার ৫২৪ জনের অভিযোগ এসেছে। এরইমধ্যে নেসকোর ২২৩ জনকে তলব করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। পিডিবির ৩২ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫ জন গ্রাহকের মধ্যে অভিযোগ এসেছে ২ হাজার ৫৮২ জনের। যার সবগুলো নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ওজোপাডিকোর (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি) গ্রাহক সংখ্যা ১২ লাখ ১৩ হাজার। অভিযোগ এসেছে ৫৫৬টি।

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল করার অভিযোগ ও গাফলতি নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের গ্রাহকের আগের রেকর্ড দেখে বিল করা হয়েছে, যা এখন থেকে রিডিং দেখে হবে। রেকর্ড দেখে ম্যানুয়ালি করতে গিয়ে কারো অতিরিক্ত বিল এসেছে। এতে আমাদের কারো কোনো গাফলতি থাকলে দেখা হবে। এরইমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে, অনেকে শাস্তির আওতায় এসেছেন, অনেকের অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন শাস্তি না পায় এটা ভালোভাবে দেখতে হবে কোম্পানিগুলোকে।

সচিব বলেন, করোনাকালে আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। এরইমধ্যে ৬০১ জন আক্রান্ত হয়েছেন, ১২ জন মারা গেছেন। এ অবস্থায় (লকডাউন) আমাদের কর্মীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গ্রাহকের আগের বিলের সঙ্গে সমন্বয় করে বিল তৈরি করেছে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কোনো কোনো গ্রাহকের বিল দুই বা তিনগুণ বেশি চলে এসেছে।

তিনি বলেন, গ্রাহকের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এক দিনের জন্য নয়, বছরের পর বছর তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক। আমাদের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার কারণে গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা বলতে চাই, গ্রাহকের ব্যবহারের বিলের অতিরিক্ত এক টাকাও পরিশোধ করতে হবে না। এ নিয়ে কোনো গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এটা হতে দেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইতোমধ্যে আমাদের চার প্রকৌশলীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৩৬ প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। অভিযোগ তদন্তে কোম্পানির নির্বাহী পরিচালককে (আইসিটি) প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এখন থেকে রিডিং দেখে বিল করা হবে।

আরও জানানো হয়, নেসকো ২ জন মিটার রিডারকে বরখাস্ত করছে। একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি করেছে। ওজোপাডিকো ২২৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।

( সম্পাদনায়:অনলাইন নিউজরুম এডিটর )

%d bloggers like this: