২৭শে নভেম্বর, ২০২০ ইং | ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:৫৩

বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য দিলেই পুরস্কার

ঢাকা অফিস (কৃষি কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণ) ।। বাঘ, কুমির বা হাতি, হরিণ, কচ্ছপ বা সাপ এবং পাখি বা অন্যান্য বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ বিষয়ে তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে আট থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।

এই সুযোগ রেখে ‘বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ উদঘাটনে (তথ্য প্রদানকারী) পুরস্কার প্রদান বিধিমালা, ২০২০’ জারি করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়।

বিধি জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার (১১ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার দীপংকর বর জানান, ‘বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ উদঘাটনে (তথ্য প্রদানকারী) পুরস্কার প্রদান বিধিমালা, ২০২০’ পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয় হয়ে বিজি প্রেসে গেছে। সেখান থেকে গেজেট হয়েছে। তবে অফিসিয়ালি পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে এখনও এর কপি আসেনি।’

বিধিমালায় বলা হয়েছে, অপরাধে জড়িত ব্যক্তি বা বাঘসহ কোনো ব্যক্তিকে বনাঞ্চলের ভেতরে ধরার ক্ষেত্রে তথ্যের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং বনাঞ্চলের বাইরের এ তথ্যের জন্য ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

কুমির ও হাতির ক্ষেত্রে আসামি ও প্রাণীসহ বনাঞ্চলের ভেতরের তথ্যের জন্য ৩০ হাজার টাকা এবং আসামি ও প্রাণীসহ বনাঞ্চলের বাইরের এ তথ্য জানিয়ে ১৫ হাজার টাকা পুরস্কার পাওয়া যাবে।

হরিণ সংক্রান্ত অপরাধে বনের ভেতরের তথ্য দিলে ২০ হাজার টাকা এবং বনের বাইরের তথ্যের জন্য ১০ হাজার টাকা পুরস্কার পাওয়া যাবে।

আর কচ্ছপ বা সাপ নিয়ে বনের ভেতরের অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য দিলে ১৫ হাজার টাকা এবং বনের বাইরের তথ্য দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

এছাড়া পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর ক্ষেত্রে বনের ভেতরে অপরাধ উদঘাটনে তথ্য দিয়ে ১০ হাজার টাকা এবং বনের বাইরে তথ্য জানিয়ে আট হাজার টাকা পুরস্কার পাওয়া যাবে।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, এসব পুরস্কার দিতে প্রধান বন সংরক্ষকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। এই কমিটি আর্থিক পুরস্কারের জন্য প্রস্তুত করা তালিকা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেবে।

অপরাধ উদঘাটনে তথ্য অনুসন্ধান চলার সময়ে তথ্য উদঘাটনের সময় বা পরবর্তী সময়ে বন কর্মকর্তা তথ্য দানকারীর পরিচয়সহ সব তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখবেন।

বিধিমালা অনুযায়ী, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ উদঘাটন করা সম্ভব হলে তথ্যদাতাকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া যাবে।

অপরাধ উদঘাটন করা সম্ভব না হলেও পরে আলামতসহ অপরাধ উদঘাটন বা অপরাধীকে শনাক্ত ও আটক করা হলে তথ্য দানকারীকে আর্থিক পুরস্কারের জন্য বিবেচনায় আনা যাবে।

অপরাধ সংঘটনকারীকে শনাক্ত করা না গেলে, আটক বা হাতেনাতে ধরা সম্ভব না হলে, অপরাধী শনাক্ত হলেও বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা সম্ভব না হলে তথ্যদাতা ব্যক্তি পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না বলে বিধিমালায় বলা হয়েছে।

বিধিমালা অনযায়ী, পুরস্কারের অর্থ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বা ওয়ার্ডেন বা অতিরিক্ত প্রধান ওয়ার্ডেন বা বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের মাধ্যমে তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে দেবেন।

তবে কোনো তথ্য দানকারী যদি জীবনের ঝুঁকির ভয়ে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে চান, তবে তথ্য দানকারীকে একটি পরিচিতি সংখ্যা ‘আইসিএন’ দিয়ে শনাক্ত করতে হবে। পরে সব যোগাযোগ আইসিএন অনুযায়ী করতে হবে।

বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য আগে প্রকাশিত হলে, কোনো তথ্য বেনামে দেওয়া হলে এবং তথ্যদাতা নিজেই সেই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে আর্থিক পুরস্কারের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন বলে বিধিমালায় বলা হয়েছে।

( সম্পাদনায়:অনলাইন নিউজরুম এডিটর )

%d bloggers like this: