৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং | ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:২৫

করোনার চিকিৎসা সামগ্রী মজুতদার সেই ৪ ব্যক্তি কারাগারে

আইন আদালত ডেস্ক (কৃষি কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণ) ।। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের চিকিৎসা এবং এর সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবহৃত বিপুলসংখ্যক উপকরণ অবৈধভাবে মজুতের অভিযোগে গ্রেফতার চারজনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৯ এপ্রিল) একদিনের রিমান্ড শেষে তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এসময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অপরদিকে তাদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমান তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার তাদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে বাংলামোটরের জহুরা টাওয়ারে অবস্থিত এবিসি করপোরেশনে অভিযান চালিয়ে আনোয়ার হোসেন, অমিত বসাক, শোয়াইব ও শুভকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এস এম শামীম।

তাদের হেফাজত থেকে ২৭৫ পিস করোনা টেস্টিং কিট, নয় হাজার ৫০টি সাধারণ মাস্ক, ১০০ এন-৯৫ মাস্ক, ১৯৮টি পিপিই, ৯৬০ জোড়া হ্যান্ড গ্লাভস, ২৫০ জোড়া চশমা, ৯০০টি ক্যাপ, ১ হাজার ৪৪০টি সু-কাভার উদ্ধার করা হয়।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এস এম শামীম বলেন, ‘সন্ধ্যার পর মগবাজার মোড়ে চেকপোস্টে ডিউটি করছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে অভিযোগ করেন, বাংলামোটরের এক ব্যবসায়ী ২০টি মাস্কের মূল্য হিসেবে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা রেখেছেন যদিও মাস্কগুলোর প্রকৃত মূল্য মাত্র তিন হাজার ৬০০ টাকা। বিষয়টি আমলে নিয়ে তখনই সহকারী পুলিশ কমিশনার (পেট্রোল-রমনা) জাবেদ ইকবালসহ রমনা ও শাহবাগ থানার দুটি দল নিয়ে ঘটনাস্থল বাংলামোটরের জহুরা টাওয়ারে অবস্থিত এবিসি করপোরেশনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, দোকান সার্চ করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ করোনা প্রতিরোধের সামগ্রী পাওয়া যায়। যার মধ্যে করোনা টেস্টিং কিটও রয়েছে, যা বেসরকারিভাবে পাওয়ার কথা নয়।

অভিযানে অংশ নেয়া সহকারী পুলিশ কমিশনার জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণে জনজীবন যখন বিপন্ন, টেস্টিং কিট, পিপিই ও মাস্কের অভাবে ভাইরাসের চিকিৎসা সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে, ঠিক তখনই আটকরা অধিক মুনাফার লোভে অতি জরুরি এসব পণ্য অবৈধভাবে গুদামজাত করে রেখেছেন।’

%d bloggers like this: