২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:২৮

করোনা সংকটে ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে রক্তের স্যুপ

ডেস্ক রিপোর্টার (কৃষি কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণ)।। করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতি অনেকটা সামলে উঠলেও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়েছে ভেনেজুয়েলা। দেশটিতে দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার চলে গেছে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এ কারণে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে রক্তের স্যুপ পান করছে।

এনডিটিভি’র খবরে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় করোনার ফলে লকডাউন জারি হওয়ার পর থেকেই চরম বিপাকে পড়েছে দরিদ্র মানুষ। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সান ক্রিস্টোবালে দেখা গেছে, মানুষ বিনামূল্যে খাদ্যের চাহিদা পূরণের জন্য কসাইখানার সামনে লাইন ধরে দাঁড়াচ্ছেন। সংগ্রহ করছেন গরু বা অন্য কোনো গৃহপালিত পশুর রক্ত।

স্থানীয় একটি গ্যারেজের শ্রমিক কুড়ি বছর বয়সী আলেইয়ার রোমেরো জানান, লকডাউনের কারণে তিনি চাকরি হারিয়েছেন। সরকারের ত্রাণ খুব ধীরে পৌঁছায় মানুষের কাছে। কিন্তু বেঁচে তো থাকতে হবে! ফলে তিনি সপ্তাহে দু’বার কসাইখানায় যান। সেখান থেকে রক্ত সংগ্রহ করে এনে পান করেন। আর এভাবেই ক্ষুধার জ্বালা এবং প্রোটিনের অভাব তিনি পূরণ করছেন।

খবরে প্রকাশ, ভেনেজুয়েলায় গরুর রক্ত খাওয়া বেড়ে গেছে। এটি দেশটির অবনতিশীল অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে। মূল্যস্ফীতির কারণে গত ছয় বছর ধরে এমনিতেই সংকটে রয়েছে দেশটি। করোনা মহামারি এই সংকটের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সে দেশের মানুষ নিজেদের ‘মাংসাশী জাতি’ হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করে। কিন্তু বর্তমানে মাংসের বদলে রক্ত পান করতে হচ্ছে বলে অনেকেই খুশি নন। তবে গরুর রক্ত ভেনেজুয়েলার ঐতিহ্যবাহী পিশন স্যুপের একটি উপাদান। প্রতিবেশী কলম্বিয়াতেও করোনা সংকট শুরু হওয়ায় মানুষ এই স্যুপের প্রতি ঝুঁকেছিল।

সান ক্রিস্টোবালের কসাইখানায় মহামারির আগে পশুর রক্ত ফেলে দেওয়া হতো। কিন্তু এখন রক্ত নেওয়ার জন্য প্রতিদিন শত শত লোক ভিড় করছেন। কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়া বাউদিলিও চাকন নামে এক নির্মাণ শ্রমিক বলেন, আমরা ক্ষুধার্ত। ঘরে পরিবার রয়েছে। আমরা সবাই এই রক্তের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছি।

এদিকে সরকারিভাবে ঘোষিত দেশটিতে ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। তবে অর্থনীতি স্থবির হওয়া এবং সরকারি ত্রাণ কর্মসূচির ধীর গতির কারণে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বেশি। সরকারি তথ্য অনুসারে, গত শনিবার পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫০৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। অবশ্য সমালোচকরা বলছেন, সত্যিকার সংখ্যা আরও বেশি।

এদিকে করোনা প্রাদুর্ভাবের আগেই জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছিল, বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ মানবিক সংকটে থাকা দেশের একটি হবে ভেনেজুয়েলা।

ছবি ও তথ্য ইন্টারনেট
( সম্পাদনায়:অনলাইন নিউজরুম এডিটর )

%d bloggers like this: