২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:১১

হোম আইসোলেশনে করণীয়

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক (কৃষি কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণ) ।। বাংলাদেশে প্রতিদিন বাড়ছে কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এই সংক্রামক ব্যাধি নিয়ে আতঙ্ক এখন চরমে। তবে কভিড-১৯ পজিটিভ হলেই যে সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে এমন নয়।

পরিসংখ্যান বলছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ৮০ শতাংশই, যাঁদের কোনো উপসর্গ নেই অথবা মৃদু উপসর্গ আছে, তাঁরা বাসায় আইসোলেশনে থেকে, সঠিক নিয়ম-কানুন মেনে, বিশ্রাম নিয়ে এবং চিকিৎসকের নিদের্শনা অনুযায়ী লক্ষণনির্ভর চিকিৎসা গ্রহণ করে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করতে পারেন।

১০-১৫ শতাংশ রোগীর শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয় এবং ৫-৬ শতাংশ রোগীর আইসিইউর প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও মৃদু উপসর্গের কডিভ রোগীদের বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করেছে।

হোম আইসোলেশনে করণীয়

► যে ঘরে জানালা আছে এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে, আক্রান্ত ব্যক্তি বাড়ির এমন একটি ঘরে আইসোলেটেড থাকবেন। ঘরটিতে কার্পেট এবং বাড়তি আসবাব থাকলে সেগুলো সরিয়ে ঘরটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে গুছিয়ে দিতে হবে। ঘরসংলগ্ন বাথরুম থাকা বিশেষ জরুরি।

► ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখতে হবে। পরিচর্যাকারী ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা যেন কখনো সেই ঘরে প্রবেশ না করে অথবা আক্রান্তকে বাইরে থেকে দেখতে যেন কেউ না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

► ঘরে প্রয়োজনীয় সামগ্রী, যেমন—মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, ওষুধপত্র, টিসু বক্স, গ্লাস—এগুলো রাখতে হবে, যেন প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে পাওয়া যায়।

► আক্রান্ত ব্যক্তি ঘরে বসেই যেন পানি গরম করে নিয়মিত গার্গল করতে পারেন, স্টিম ভ্যাপার নিতে পারেন, আদা-লেবু, টি-ব্যাগ দিয়ে চা তৈরি করে খেতে পারেন, এ জন্য ঘরে ইলেকট্রিক কেটলি দেওয়া যায়।

► ঘরে আবর্জনা, ব্যবহৃত টিস্যু, মাস্ক, গ্লাভস ছড়িয়ে ছিটিয়ে না রেখে মুখবন্ধ বিনে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে রাখতে হবে। ব্যাগটি পূর্ণ হলে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে গ্লাভস পরে ব্যাগটির মুখ বন্ধ করে ব্যাগের বাইরে জীবণুনাশক হাইপোক্লোরেট সলিউশন ছিটিয়ে রেখে দেবেন। পরিচর্যাকারীকে হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক পরে ওই ব্যাগ সংগ্রহ করে নিয়ে মুখবন্ধ অবস্থায় ওই ব্যাগ ভর্তি আবর্জনা মাটিতে পুঁতে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

► দৈনিক পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন বিধায় ঘরেই বড় কনটেইনারে পানি রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

► কিছু প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল সরঞ্জাম, যেমন— থার্মোমিটার, ডিজিটাল রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্র, সম্ভব হলে পালস অক্সিমিটার, ডায়াবেটিস থাকলে স্ট্রিপসহ গ্লুকোমিটার (হাইপোগ্লাইসেমিয়ার সতর্কতার জন্য গ্লুকোজ অথবা চিনি) দেওয়া আবশ্যক।

► ঘরের টেবিল, ব্যবহৃত স্পর্শকাতর জিনিসপত্র, মোবাইল, ল্যাপটপ, দরজার নব অথবা হ্যান্ডেল, লাইটের সুইচ ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল দিয়ে প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে।

► আক্রান্ত ব্যক্তিকে সম্ভব হলে নিজে অথবা পরিচর্যাকারীর সাহায্য নিয়ে প্রতিদিন জীবাণুনাশক ব্লিচিং পাউডার পানিতে মিশিয়ে গ্লাভস পরে ঘরের মেঝে, বাথরুম পরিষ্কার করতে হবে।

► প্রতিদিন গোসলের সময় পরিহিত কাপড়, তোয়ালে এবং সপ্তাহে দুইবার বিছানার চাদর, বালিশের কাভার গরম পানি, সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করতে হবে।

( সম্পাদনায়:অনলাইন নিউজরুম এডিটর )

%d bloggers like this: